আজ || সোমবার, ২০ মে ২০২৪
শিরোনাম :
  রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডিজাইনকৃত পোশাক নিয়ে ফ্যাশন প্রদ‍‍র্শনী       গোপালপুরে দারোগার মাথা ফাটানোর ঘটনায় ১৬ জনকে জেলহাজতে প্রেরণ       গোপালপুরে দারোগার মাথা ফাটিয়েছে সন্ত্রাসীরা; গ্রেফতার ১০       গোপালপুরে প্রধানমন্ত্রীর ফেয়ার প্রাইজের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ       গোপালপুরে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেনের পদত্যাগ       উত্তর টাঙ্গাইল নূরানী মাদরাসার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান       গোপালপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন       গোপালপুরে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত       গোপালপুরে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় শিশু ও নারী নিহত       গোপালপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ প্রদান    
 


শীতে কাঁপছে আইলা-সিডর উপদ্রুত এলাকার চার লক্ষাধিক মানুষ

আইলা-সিডর উপদ্রুত দূর্গম জনপদের শিশু, নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, কিশোরীসহ চার লক্ষাধিক মানুষ নানা বিধ সমস্যা ছাড়াও শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছে। ২০০৭ সালে ১৫ নভেম্বরে সিডর ও ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘটে যাওয়া আইলার পরে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের অনেকেই স্বজন আর সম্পদ হারানোর বেদনায় এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারনি।

সিডর দুর্গত বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা উপজেলা এবং আইলা দুর্গত খুলনা জেলার কয়রা ও দাকোপ উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রয়েছে এই ভয়াবহ চিত্র।

নোনা পানি সহ্য করতে না পেরে গাছপালাগুলো আগেই মারা গেছে। জমিতে এখনও ভালো ফসল ফলে না, আয়মূলক কার্যক্রম অনেক কম আর এর সাথে সাথে শীতের তীব্রতা, সব মিলিয়ে নাজেহাল এই অঞ্চলের মানুষ। এমনই কথা বললেন দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক প্রমদ মন্ডল। তবে কোথাও কোথাও পানি শুকিয়ে মাঠ কাঠ। যে কারণে সেখানেও ফসল ফলানো যাচ্ছে না। শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য মুঠো ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান এই অঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের এই শীতে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।

এই প্রচন্ডশীতে তাঁদের একদিকে শীতের কাঁপুনি, পেটে খিদে, গায়ে চুলকানি-ঠান্ডা লেগে খক্খক্ কাশি-টন্সিল ফুলে ঢোল, আর অপর দিকে বিশুদ্ধ পানীয় জলের চরম সংকটে গলা শুকিয়ে হয় কাঠ! এলাকার অনেক মানুষ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে দিতে না পেরে ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকার বাইরে কাজে গিয়েছে বলে জানান এক জনপ্রতিনিধি। আর অভিভাবকেরা জানান, সাত থেকে ১৪/১৫ বছর বয়সী অনেক শিশুরা সাগরে গেছে মাছ ধরতে এবং দুবলার চরে শুটকির কাজে। কেউ কেউ শহরের দিকে এসে ভ্যান-রিক্সা চালাতে শুরু করেছে। আবার অনেকে সুন্দরবনে যায় গাছ, গোলপাতা কিংবা মধু সংগ্রহ করতে।

অভিজ্ঞ মহলের অভিমত, আইলা-সিডর দুর্গত জনপদের ৬ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সের বেশীর ভাগ শিশু এখন মারাত্মকভাবে পুষ্টি হীনতায় ভূগছে। সাইক্লোনের পর বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে শিশুদের কিছু পুষ্টি বিস্কুট সরবরাহ করা হলেও দীর্ঘ দিন ধরে তা আর হচ্ছে না। এসব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ফলে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দুর্গত শিশুরা। এমতাবস্থায় পুষ্টিকর খাবারতো দূরে থাক তিন বেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না অনেক পরিবারের।

তবে এখনও সরকার ও বেসরকারি সংস্থা বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে, কিন্তু এটা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। অপরদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরা রয়েছে মারাত্মক সমস্যায়। কেনানা তারা না পারছে কারো কাছে হাত পাততে, না পারছে সহ্য করে জীবন অতিবাহিত করতে। এমন পরিবারের অধিকাংশ শিশুর লেখাপড়া বন্ধ করে এলকার বাইরে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন অনেক অভিভাবক। কিন্তু যাদের তেমন কেউ নেই তাঁদের শিশুদের কী হবে? এমন হাজারো প্রশ্ন আইলা-সিডর দুর্গত শিশুসহ অন্যান্য মানুষের মুখে। এছাড়া সামনে যদি শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে কি হবে এই দুগত মানুষের। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অতিদ্রুত সরকার বিত্তবান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলো তাদের পার্শ্বে এসে দাড়াবে এই দুর্দশা লাঘব করার জন্য।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!