নিজস্ব প্রতিবেদক :
৪৬তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শিপন রানা। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) প্রকাশিত ফলাফলে তিনি দেশের সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেন।
শিপন রানা ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের মো. মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এইচএসসিতে বোর্ড বৃত্তি লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন (ফিলোসফি) বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
জানা যায়, বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি স্নাতকোত্তর পরীক্ষা চলাকালে তিনি প্রতিদিন ১৪-১৫ ঘণ্টা অধ্যয়ন করেন। গত তিন থেকে চার বছর ছিল তাঁর জীবনের কঠোর অধ্যবসায় ও আত্মসংযমের সময়। এ সময় তিনি বিনোদন, সামাজিক আড্ডা ও খেলাধুলা সীমিত করেন এবং দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন। ঈদের সময় পরিবারে না গিয়ে হলে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যান।
২০২৫ সালের জুনে গোপালপুরের ব্যবসায়ী মো. মোফাজ্জল হোসেনের (বাবলু) মেয়ে ইশরাত নাদিয়া মীমের সাথে তার শুভবিবাহ সম্পন্ন হয়। মীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান (সোসিওলজি) বিভাগের শিক্ষার্থী। লিখিত পরীক্ষার কারণে বিয়ের সময়সূচি ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে দিতে হয় তাঁকে।
শিপন রানা জানান, তাঁর এই সাফল্যে স্ত্রী ইশরাত নাদিয়া মীমের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতির পুরো সময় তিনি মানসিক শক্তি, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। পড়াশোনার পরিকল্পনা, ভাইভা প্রস্তুতি এবং কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরে পাশে থেকে স্ত্রী এক ধরনের গাইডলাইন হিসেবেই কাজ করেছেন বলে জানান তিনি। ধর্মীয় অনুশাসনে নিয়মিত শিপন রানা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তাহাজ্জুদ আদায় করেন। তিনি বলেন, “এই অর্জন মহান আল্লাহর অশেষ রহমত। বাবা-মা, স্ত্রী, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া ও সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।”
শিপন রানার এ সাফল্যে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।