আজ || সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
  শিপন রানা ৪৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম       নুরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কর্মশালা       গোপালপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরী মিটিং       গোপালপুর পৌরশহরের বৈরাণ সেঁতুর জীর্নদশা; নির্মাণ প্রকল্প ফাইলবন্দী       ঘাটাইল উপজেলাসহ জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বাসুদেব পাল       শিক্ষার্থী মুনের অনেক গুণ       গোপালপুরে ডাকবাংলোতে ঝুঁকি নিয়ে অতিথিদের রাত যাপন       গোপালপুরে স্কুল শিক্ষিকার বাসায় ডাকাতি       গোপালপুরে ঝিনাই সেঁতুতে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় নিদারুণ ভোগান্তি       গোপালপুর উপজেলা পরিষদ স্কুলে ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ    
 


গোপালপুরে ডাকবাংলোতে ঝুঁকি নিয়ে অতিথিদের রাত যাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি :
ষাটের দশকে নির্মিত হয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সরকারি ডাকবাংলো। জেলা পরিষদ নির্মিত এ ডাকবাংলোটির এখন করুনদশা। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ভবনটির কয়েক স্থানে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। বিপজ্জনক ভবনটি যে কোন সময়ে ধ্বসে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে রাত যাপন করেন অতিথিরা। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ বাজেট না থাকায় নতুন বাংলো নির্মাণ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার অধীনে টাঙ্গাইল মহকুমা থাকাবস্থায় ১৯৬২ সালে গোপালপুর থানা সদরের কোনাবাড়ীতে ৬৯ শতাংশ জমিতে জেলা পরিষদের দুই কক্ষ বিশিষ্ট একতলা বাংলো ভবনটি নির্মিত হয়। গোপালপুরে তখন কয়েকটি পাট বেলিং কারখানা এবং সরকারি পাট ক্রয় কেন্দ্র থাকায় আদমজীর ব্যবসায়ী এবং সরকারি-আধাসরকারি কর্মকর্তারা ব্যবসায়িক ও সরকারি কাজে এলে জেলা পরিষদের এ বাংলোতে উঠতেন। ৬৯ সালে টাঙ্গাইল জেলায় রুপান্তরিত হলে এ ডাকবাংলোর দেখভালের দায়িত্ব পায় টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি থানা সদরের একমাত্র পাকা ভবন হওয়ায় ডাকবাংলোটি পাকিস্তানী বাহিনীর প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিনত করে। সেই সময় এক যুদ্ধে ডাক বাংলোর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৮০ সালে টাঙ্গাইলের তদানিন্তন জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল করিম বাংলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনঃসংস্কার করেন। ২০০০ সালে এক তলা পুরনো ভবনের সাথেই দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি আলাদা দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু নির্মাণের কয়েক মাস পরেই নতুন ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দেয়। সময়ের পরিক্রমায় এখন নতুন-পুরান দুই ভবনই ব্যবহারের অযোগ্য। পুরনো ভবনের ভবনের দেয়াল ও ছাদে অসংখ্য ফাটল। বর্ষাকালে ছাঁদ চুঁয়ে পানি পড়ে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। ভবনের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদে বটপাকুড় গজিয়ে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। উভয় ভবনের জানালা দরজা ভাঙ্গা। বাথরুম ব্যবস্থারের অনুপোযোগী। আধাপাকা কিচেন  ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় মেহমানদের জন্য কোন রান্না হয়না। ডাইনিং রুম পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অনবরত পলেস্তারা খসে পড়ায় ছোট্র মিলনাতায়ন ব্যবহার করা যায়না। ডাকবাংলোর সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার নিরাপত্তা দেয়াল ডিঙ্গিয়ে কুকুর, বিড়াল, ছাগল ঢুকে পরিবেশ নোংরা করে। বাংলোর উত্তর পশ্চিমে চত্বরে বড় নর্দমা এবং অন্য দুই পাশ ঝোপঝাড়ে ভরপুর থাকায় মশামাছির উপদ্রব বিদ্যমান। সন্ধ্যার পর মাদকসেবীরা এখানে আড্ডা জমায়।

ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মোঃ আনিছুর রহমান জানান, সংস্কার ও মেরামতের অভাবে পুরো বাংলো বসবাসের অনুপযোগী। ভাঙ্গা জানালাদরজা দিয়ে চুরির আশঙ্কা থাকে। ঝড়বৃষ্টিতে আগত মেহমানরা এখানে অবস্থান করতে ভয় পান।  উপজেলা সদরে সরকারি-বেসরকারি কোন গেষ্ট হাউজ বা অতিথিনিবাস না থাকায় নবাগত কর্মচারি-কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী বা পর্যটকরা উপায়হীন হয়ে এখানে রাত নিবাস করে। ডাকবাংলোর করুন দশার চিত্র তুলে ধরে আনিসুর আরো জানান, ২০১৪ সালে জেলা পরিষদ থাকার কক্ষের জন্য মাত্র দুই সেট লেপ-তোষক এবং ২০১৮ সালে দুই সেট চাদর সরবরাহ করেন। বিগত ৮ বছরে আর কোন লেপ-কম্বল বা চাদর সরবরাহ হয়নি। সময়মতো ভবনের চুনকামও করা হয়না। এক যুগ ধরে টুথপেষ্ট-ব্রাশ, সাবান, হারপিক, টয়লেট বা টিসু পেপার সরবরাহ করা হয়না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের একজন কর্মচারি জানান, তিন বছর আগে জেলা পরিষদ গোপালপুর ডাকবাংলো পুনঃসংস্কার এবং আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য  ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়। সেই টাকায় সরকারি দলের এক ঠিকাদার ৫টি খাট, দুটি আলমিরা, দুটি ওয়ারড্রপ, দুটি  টেংকি সংস্কার এবং দুটি রুম চুনকাম করে দায়িত্ব সারে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান জেলা পরিষদ বাংলোর দুরবস্থার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ছয় দশকে গোপালপুরে সরকারি-আধা সরকারি বহু নতুন অফিস ভবন নির্মিত ও সংস্কার হয়েছে। কিন্তু জেলা পরিষদের সরকারি বাংলোটি একদম বসবাসের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। গোপালপুর উপজেলা শহরে সরকারি বা বেসরকারি কোন আবাসিক হোটেল বা অতিথি ভবন নেই। কোন সরকারি কর্মকর্তা কখনো অফিসিয়াল ট্যুরে এলে অথবা কেউ বদলী হয়ে এলে সাময়িক বসবাসের জন্য এ বিপজ্জনক ডাকবাংলোই একমাত্র ভরসা। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় অনেক সরকারি কর্মকর্তা এখানে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে আসবেন। জেলা পরিষদের বসবাস অনুপযোগী এ বাংলোতে তারা কিভাবে অবস্থান করবেন তা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন খুবই চিন্তিত। এখানে নতুন একটি ডাকবাংলো নির্মাণের জন্য কতৃপক্ষকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বপ্না জানান, টাঙ্গাইলে জেলা পরিষদের অধিকাংশ ডাকবাংলোর অবস্থা খারাপ। বর্তমানে টাঙ্গাইল সদর, বাশাইল এবং মির্জাপুরের গোড়াইয়ে নতুন ডাকবাংলো নির্মাাণের বাজেট পাওয়া গেছে। সামনের দিনে সরকারি বাজেট পাওয়া গেলে গোপালপুরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!