আজ || বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম :
  হেমনগর জমিদারের একাল-সেকাল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন       গোপালপুরে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ       গোপালপুরে পটগান ও নাটক প্রদর্শনী       গোপালপুর হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত       গোপালপুরে সাংবাদিকদের সাথে ওসির মতবিনিময়       গোপালপুরের লক্ষীপুর চাকুরীজীবী পরিষদ কর্তৃক শীতবস্ত্র বিতরণ       গোপালপুরে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে সুয়েটার উপহার       গোপালপুরে স্বামীর হাতে দুই সন্তানের জননী খুন       গোপালপুরে দুই বিঘা জমির কাঁচা সরিষা ট্রাক্টর দিয়ে মাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ       গোপালপুরে গুদামের শার্টার ভেঙ্গে সার চুরি, ১০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ আটক ১    
 


গোপালপুরে বনায়নের নামে সরকারি অর্থের বৃক্ষচারা গরু-ছাগলের পেটে

কে এম মিঠু, গোপালপুর :

সরকারি নীতিমালা লঙ্গন করে বনায়ন করায় সড়ক বনায়নের সকল কচি চারা চলে গেছ গরু-ছাগলের পেট। ফলে সরকারের রাজস্ব খাতের বিপুল টাকা লোকসানের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

জানা যায়, ১৯৩.৩৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গোপালপুর উপজেলায় মোট ভূমির পরিমান ১৯ হাজার ১৪৮ হেক্টর। কোন সরকারি বনভূমি নেই। বসতভিটা সংলগ্ন গ্রামীন বন মোট ভূমির ২.২১%। অথচ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষাছাদিত ভূমি দরকার ২৫%। উপজেলায় পাকা সড়ক ২০১ কিলো। ঝিনাই, বৈরাণ ও যমুনা নদীর তীর ও বাঁধ প্রায় ১৩০ কিলো। এসবের ৯৫% জায়গায় দীর্ঘ দিন বনায়ন হয়না। প্রায় দেড়শো কোটি টাকা ব্যয়ে বৈরাণ নদী খনন এবং উভয় তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে বনায়ন করেনি। ফলে বন বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি ও আধাসরকারি অধিদপ্তর এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যাগে সামাজিক তথা অংশীদারিত্বের বনায়ন জোরালো হয়নি।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও এসএসএস জানায়, গোপালপুর উপজেলায় সামাজিক বনায়ন দেখভাল করেন টাঙ্গাইল বনবিভাগের আওতাধীন মধুপুর উপজেলা সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানকার একজন ফরেষ্টার বনবিভাগের নার্সারীতে চারা উত্তোলন করে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার সড়ক ও বাঁধ বনায়ন করে থাকেন। এবার গোপালপুর উপজেলার হাদিরা, ধোপাকান্দি ও পৌরসভা এলাকায় ৯ কিলো সড়ক বনায়ন করার কথা।

গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোজাম্মল হোসেন অভিযোগ করেন, এলাকাবাসিকে উদ্ধুব্দকরনের মাধ্যমে একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের পর সকলকে সাথে নিয়ে সড়ক বনায়ন করার নিয়ম। কিন্তু মধুপুর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ফরেষ্টার জুলহাস উদ্দিন জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় জনগনকে না জানিয়ে ভাদুড়িচর-নিয়ামতপুর হালট, মাহমুদপুর-পলশিয়া হালট, পলশিয়া-সেনেরচর হালটসহ ৬ কিলো গ্রামীন হালটের দুই পাশে নিন্মমানের চারা রোপন করেন। ৪/৫ ফিটের পরিবর্তে এক দেড় ফিট উচ্চতার চারা লাগানো হয়। দক্ষ লেবার না নিয়ে মধুপুর থেকে কয়েকজন স্কুলগামী শিশুকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে রিকসাভ্যান করে এনে এসব হালটে চারা লাগানো হয়। অনভিজ্ঞ শিশুরা চারার গোড়ালি ঢাকা পলিথিন না ফেলেই তা মাটিতে রোপন করে। রোপনের সময় সার, গোবর এবং পরে জল সিঞ্চন করা হয়নি। শক্ত খুঁটিও দেয়া হয়নি। বৃক্ষচারা দেখাশোনার জন্য একজন পাহারাদার নিয়োগ দিলেও  চুক্তিমতো বেতন না দেয়ায় এক মাস পর সে কাজ ছেড়ে দেয়। অংশীদার নির্বাচন না করায় বনায়ন নিয়ে গ্রামবাসিদের কোন আগ্রহ ছিলনা। এমনকি সরু হালটের মাঝখানে চারা রোপন করায় পথচারিদের হাটাচলায় সমস্যা হয়। অবহেলা অযত্নে কিছু চারা মারা যায়। অবশিষ্ট চারা গরুছাগলের পেটে যায়। এমতাবস্থায় নিজের অবহেলা আড়াল করার জন্য বন কর্মীরা চারা লোপাটের মিথ্যা অভিযোগ তুলে গ্রামবাসিকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি শুরু করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হয়রানি বন্ধ হয়।

হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  বিলকিস জাহান জানান, এটি কোন বনায়ন ছিলনা। এটি ছিল সরকারি টাকা নয়ছয় করার ফন্দি। এলাকার অনেক বড়সড় পাকা সড়ক রেখে গ্রামের ছোট ছোট হালট, যেটি দিয়ে কৃষকরা জমি চাষাবাদের জন্য কলের লাঙ্গল আনা নেয়া করে বা কর্তনের পর ফসল বাড়িতে আনে, সেই সরু সড়কের দুই পাশে বনায়নের নাম গণঅসন্তোষ তৈরি করে বনকর্মীরা। বনবিভাগ কারো কথায় পাত্তা না দেয়ায় বনায়ন সফল হয়নি। মাঝখান থেকে সরকারি অর্থও অপচয় হয়েছে। এজন্য বনবিভাগ দায়ী বলে তিনি মনে করেন।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসফিয়া সিরাত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ফরেষ্টার জুলহাস উদ্দিনকে কয়েকদিন আগে দরকারি কাগজপত্রসহ অফিস ডেকে আনা হয়েছিল। বনায়ন নিয়ে নানা অনিয়ম ও স্বেছাচারিতার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ওই সব সড়কে পুনরায় বনায়ন করবেন বলে তিনি কথা দিয়ে গিয়েছেন।

ফরেস্টার জুলহাস উদ্দিন জানান, সব নিয়ম মেনেই তিনি এসব হালটে বনায়ন করেছিলেন। কিন্তু কেউ সহযোগিতা না করায় রোপিত চারা রক্ষা করা যায়নি। ইউএনও মেডাম বললেও এখন আর নতুন করে বনায়ন করার সুযোগ নেই। আগামী মে-জুন মাসে দেখা যাবে এসব হালটে পুনঃবনায়ন করা যায় কিনা?

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!