তিনি লিওনেল মেসি, তাই আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোকে হারালেও শিরোনাম হয়, ‘গোল করতে পারেননি মেসি।’ দল জিতলে স্কোরশিটে নিজের নাম উঠল কি না, তা নিয়ে থোরাই ভাবেন তিনি! বরং প্রীতি ম্যাচে পুরো দলের নৈপুণ্য দেখে মেসির উচ্ছ্বাস, ‘আর্জেন্টিনা এখন আরো শক্তিশালী।’ তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে স্বপ্নের ফুটবলারের কাছে এটাই তো শুনতে চান আর্জেন্টিনাভক্তরা।
বুধবারেরটা ছিল নিছকই একটা প্রীতি ম্যাচ, যা আদতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ। এ ধরনের ম্যাচে মরণপণ যুদ্ধ করতে গিয়ে চোটের অযাচিত ঝুঁকি নেননি মেসি, ‘আর কটা দিন পরই ব্রাজিলে যাব। তাই এ সময়টায় কেউই প্রীতি ম্যাচে ইনজুরির ঝুঁকি নিতে চায়নি। বরং সতর্ক হয়ে খেলেছে। তবে আমাদের জয়ের ইচ্ছায় কোনো কমতি ছিল না। আমার বিশ্বাস, সতর্ক থেকে যতটা সম্ভব সিরিয়াস ফুটবল খেলেছি।’
আর্জেন্টিনা এখন আরো শক্তিশালী
তবু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তাঁর গোল করতে না পারাটা নানা কারণে বিশেষ খবর। জাতীয় দলে অতটা মন দিয়ে খেলেন না- এ অভিযোগও আছে অনেকের। তবে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারির উচ্ছ্বাসে খুশি মেসি, ‘ম্যাচের পর দর্শকরা যেভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাতে আমি খুবই খুশি।’ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস আরো বাড়িয়ে দিতে বাধ্য প্রিয় তারকার বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার অনুভূতি, ‘টিমমেটদের মতো আমিও বিশ্বকাপ নিয়ে রোমাঞ্চিত। আমরা সবাই সবাইকে ভালো করে চিনি, জানি আমাদের দলের কে কেমন খেলোয়াড়।’ আর মেসির কাছে বিশ্বকাপ সাফল্যের চাবিকাঠি, ‘তবে পুরো বিশ্বকাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্ত থেকে সাফল্যের সুরটা ধরে রাখতে হবে। যখন যা সামনে আসবে, ফোকাসটা থাকতে হবে সেটার ওপরই।’
মেসির কথারই পুনরাবৃত্তি শোনা গেছে ডিফেন্সের হাভিয়ের মাসচেরানোর কণ্ঠে, ‘বিশ্বকাপ ছাড়া এ মুহূর্তে আর কিছু ভাবছি না। তবে কাপটা কিন্তু খেলেই জিততে হবে। পুরো দলকে একসঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে। সেটা না হলে প্রথম ম্যাচটা ভালো যাবে না।’ প্রথম ম্যাচ নিয়ে বার্সার এ ডিফেন্ডারের মনে সংস্কারও আছে, ‘খেয়াল করে দেখবেন আমাদের সাফল্য-ব্যর্থতার সঙ্গে প্রথম ম্যাচের যোগ আছে। ওটা খারাপ হলেই আর আমরা পারিনি।’
শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ‘খুদে জাদুকর’-এর। বর্তমান সময়ের সেরা দুই খেলোয়াড়ের তুলনা করতে গিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ফরোয়ার্ড গ্যারি লিনেকার ‘সিআরসেভেন’-এর চেয়ে অনেকটা এগিয়ে রাখছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে। একজন দলীয় খেলোয়াড় হিসেবে, কিংবা স্বার্থপরতা ও সততার নিক্তিতে, অথবা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, লিনেকারের চোখে বর্তমান সময়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি, ‘আমার কাছে মনে হয় মেসি ফুটবল ঈশ্বরের পাঠানো উপহার। অসাধারণ প্রতিভাবান একজন খেলোয়াড়। কখনো প্রতারণা করে না। সব সময় সততার সঙ্গে খেলে। যেকোনো পর্যায়ের ফুটবলারদের জন্য ও আদর্শ। অসাধারণ কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছে ও। একজন দলীয় খেলোয়াড় হিসেবেও মেসি অনন্য। মেসি সব সময় সঠিক সিদ্ধান্তটাই নেয়। সেটা পাস দেওয়ার সময় হোক কিংবা গোল করার ক্ষেত্রে। একজন লিটল জিনিয়াস। রোনালদোও দারুণ প্রতিভাবান একজন খেলোয়াড়। ওকেও আমি খানিকটা পছন্দ করি। তবে ও কিছুটা নিজের জন্য খেলে থাকে। এএফপি