আজ || মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬
 


তালের শাঁস বিক্রি করে সচ্ছলতার মুখ দেখছেন গোপালপুরের রবি

Oplus_131072

কে এম মিঠু, গোপালপুর :

মধুমাস জ্যৈষ্ঠ শেষ হলেও শেষ হয়নি মৌসুমি ফলের আমেজ। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল এলাকাগুলো এখন ভরে উঠেছে নানা মৌসুমি ফলে। এর মধ্যে গরমে মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কচি তালের শাঁস। ফলে মৌসুমজুড়ে তালের শাঁস বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদেরই একজন রবি চন্দ্র সূত্রধর।

পেশায় কাঠমিস্ত্রি রবি চন্দ্র সূত্রধর বছরের অধিকাংশ সময় কাঠের কাজ করলেও গ্রীষ্মের দুই মাস পেশা বদলে তালের শাঁস বিক্রিতে নেমে পড়েন। প্রচণ্ড গরমে তালের শাঁসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ সময়ে তার আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। তিনি জানান, মৌসুমে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয় করতে সক্ষম হন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গোপালপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড, বাজার, মাদরাসা চত্বর, মোহনপুর ও ডুবাইল বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। প্রতিটি শাঁস ৫ থেকে ১০ টাকা এবং একটি কচি তাল ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

পৌর শহরের নন্দনপুর এলাকার তালশাঁস বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি বিভিন্ন গ্রামের তালগাছ মালিকদের কাছ থেকে আগাম চুক্তিতে তাল কিনে আনেন। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০টি তাল বিক্রি করেন। খরচ বাদ দিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালান।

উপজেলায় তালগাছ থাকলেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। ফলে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকেও তাল সংগ্রহ করতে হয় ব্যবসায়ীদের। তবে মির্জাপুর, হাদিরা, ধোপাকান্দি ও আলমনগর ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি তালগাছ রয়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, ভ্যাপসা গরমে তালের শাঁস শরীরে প্রশান্তি এনে দেয়। এর জলীয় অংশ শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। তাই শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের কাছে এটি জনপ্রিয় একটি মৌসুমি খাবার।

নবগ্রাম গ্রামের তাল ব্যবসায়ী সাজু জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি তালের শাঁস বিক্রি করছেন। গোপালপুরে এর চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো। তাই প্রতিবছর মৌসুমে এই ব্যবসায় যুক্ত হন।

মজিদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, তাল সংগ্রহের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ভেজা গাছে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় ঝুঁকির কারণে কাটা কাঁদি গাছেই রেখে আসতে হয়।

হেমনগর ইউনিয়নের কায়তা গ্রামের বিক্রেতা রাসেল মিয়া জানান, বছরের অন্য সময় অন্য পেশায় থাকলেও তালের মৌসুমে শাঁস বিক্রি করে এক মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, জ্যৈষ্ঠ মাস তালের শাঁস খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। মাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাঁস শক্ত হয়ে যায়। তাই মৌসুমের শুরুতেই বাজারে এর কদর সবচেয়ে বেশি থাকে।

গরমের এই সময়ে তালের শাঁস শুধু মানুষের তৃষ্ণাই মেটাচ্ছে না, বরং অনেকের জন্য হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেশা পরিবর্তন করে সচ্ছলতার মুখ দেখছেন রবি চন্দ্র সূত্রধরের মতো অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!