ত্রুটিপূর্ণ পোশাক কারখানা বন্ধে রাজি হচ্ছে না সরকার। শ্রমিকদের কাজ হারানো এবং অসন্তোষকে বিবেচনায় নিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পোশাক কারখানার প্রধান পরিদর্শক সাঈদ আহমেদ জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধের বিষয়টি খুবই জটিল। গত বছরের ২৪শে এপ্রিল বাংলাদেশের সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১,১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন ওঠে এর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ ও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। এরপর বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও’র উদ্যোগে বাংলাদেশের ৩,৫০০ পোশাক কারখানার ভবন, বিদ্যুৎ ও অগ্নিসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে একই ভবনে যৌথভাবে স্থাপিত ১,৫০০ কারখানা পরিদর্শনের দায়িত্ব পড়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর। বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারখানা পরিদর্শকরা এরই মধ্যে ২৫০টি কারখানা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু তারা কোনো প্রতিবেদনই প্রকাশ করেননি। উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের একটি গ্রুপ ৬৮০টি কারখানা পরিদর্শনের কাজ করছেন। তারা এরই মধ্যে ২৭টি কারখানার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন ছবিসহ। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কারখানার ভবন, বিদ্যুৎ এবং অগ্নি নিরাপত্তা পুরোটাই ত্রটিপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের জোট ১,৫৪৫টি কারখানা পরিদর্শন শেষ করে ১০টি কারখানার ওপর ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তা থেকে স্পষ্ট যে প্রতিটি কারখানারই ভবনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। এসব কারখানা সংস্কার প্রয়োজন। অ্যাকর্ড বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কারখানা পরিদর্শনের কাজ করছে। অ্যাকর্ড-এর পরিদর্শক দলের প্রধান ব্র্যাড লোয়েন অভিযোগ করেছেন, “বাংলাদেশের পোশাক কারখানার প্রধান পরিদর্শক অনিরাপদ পোশাক কারখানা বন্ধে রাজি হচ্ছেন না। এটা আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর।” প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার সঙ্গে বসবেন। তাদের মতে, অ্যাকর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী ত্রুটির্পূর্ণ পোশাক কারখানা বন্ধ করা হলে তা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাঁদের মতে, তাঁদের পরিদর্শনে ৫০ ভাগের মতো পোশাক কারখানা ত্রুটিপূর্ণ। ওদিকে পোশাক কারখানার প্রধান পরিদর্শক সাঈদ আহমেদ বলেছেন, “ত্রুটিপূর্ণ পোশাক কারখানা বন্ধ করাটা খুবই জটিল। আমরা এরই মধ্যে ১৪টি পোশাক কারখানা বন্ধ করেছি। আরো কয়েকশ ত্রুটিপূর্ণ পোশাক কারখানা বন্ধ করা হলে শ্রমিকরা কাজ হারাবেন। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। এরই মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছে।” বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রনি ডয়চে ভেলেকে জানান, “পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটান প্রয়োজন। তবে তার জন্য পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিকরা কাজ হারায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত শ্রমিক এবং পোশাক শিল্পের ক্ষতি ডেকে আনবে।” তিনি বলেন, “যেসব পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন সেগুলো শেয়ারড ভবনে।” বন্ধ না করে বিকল্প কোনো ভাবে এসব কারখানার নিরাপত্তার উন্নয়ন করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখার কথা বলেন তিনি।
সূত্র : ডয়চে ভেলে