আজ || বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
  গোপালপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবকে যেভাবে হত্যা করে মামুন       পাকা মসজিদ বানানোর কথা বলে টাকা নেওয়া প্রতারক গোপালপুরে আটক       গোপালপুরে ১২০০ মিটার অবৈধ চায়না জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস       গোপালপুরে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে নারীসহ ৩ জন আটক       এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনুশোচনা নেই – আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি       গোপালপুরের উন্নয়ন নিয়ে প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা       কৃষকনেতা ও সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে গোপালপুরে সিপিবির মানববন্ধন       গোপালপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কৃষক দলের বিজয় র‍্যালি       গোপালপুরের হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আল হেলাল       গোপালপুরে ২১ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট হারিয়ে গেছে, আহ্বায়ককে অব্যাহতি    
 


প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় নকল বন্ধে আমাদের করণীয়

BODDO SIR

– অধ্যাপক এ সি বৈদ্য

মাদকের মতোই পরীক্ষায় নকল সামাজিক ব্যাধি হয়ে আমাদের মধ্যে আসন করে নিয়েছে। প্র্রায় সবাই যেন পরীক্ষায় নকলের পক্ষে অবস্থান। ছাত্র শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রনেতা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, অভিভাবকসহ সমাজের সকল স্তরের লোকজন এর সাথে কম বেশি জড়িত। সবাই চায় তার ছেলে মেয়ে যেন পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে এবং তা যে কোন উপায়ে হোক। শিক্ষকেরা এখন আর পরীক্ষার হলে বলে দিতে ভয় বা লজ্জা পায় না। সারা বছর প্রাইভেট পড়ায়, ভাল রেজাল্ট না করাতে পারলে কোচিং বা প্রাইভেট বানিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে একশ্রেণির শিক্ষকও জড়িত। প্রায় সকল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া যেন রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকদের পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনে এখন কোন বাধা নেই। জেনে শুনেই একশ্রেণির দূর্নীতিবাজ শিক্ষকরা সুকৌশলে একাজ করে থাকেন। পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করলে এলাকার সুনাম হবে, স্কুলের সুনাম হবে। তাছাড়া এমনও দেখা যায় রাজিৈনতক নেতারাও পরীক্ষা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে শলাপরামর্শ করে অবাধে নকল করার ব্যবস্থা করে দেয় এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস করার কাজে লিপ্ত থাকে। পরীক্ষার প্রশ্ন খোলার সাথে সাথে প্রশ্ন ফাঁস করে এসব শিক্ষকেরা উত্তর খোঁজার কাজে বসে যান। আমার জানা মতে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় বেশ কজন শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে ধরা খেয়ে জরিমানাও দিয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ে খুব কমই। বিষয় ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকেরা একত্রে বসে প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে দেয়া প্রথায় পরিনত হয়েছে। এরপর কম্পিউটার করা হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী ফটোকপি করে নকল সরবরাহ করা হয় অথবা পরীক্ষার হলে হলে গিয়ে বলে দেয়া হয়। অধিকাংশ অভিভাবকেরা একাজে আর্থিক সহযোগিতা করতে দ্বিধা করেন না। নকল করে ভাল পরীক্ষা দিল জেনে সবাই যেন খুশি। ফলাফল পেয়ে বাবা মা ভাই বোন শিক্ষকও মহাখুশি। যার পাশ করার কথা নয় সেও জিপিএ-৫ (গোল্ডন) পেয়েছে। এতে শিক্ষকের কদর বেড়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বাহাবা নেয়। ইদানিং কালে পত্রিকার পাতায় প্রায়ই দেখা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর। প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়মিত ফাঁস হচ্ছে, এটি জাতির জন্য লজ্জাস্কর তা হয়তো কেউ ভাবছিনা। সরকার এ নিয়ে কোন মাথা ঘামায় না বা স্বীকার করে না। ‘কোমলমতি শিশুরা পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তাও ফাঁস করা প্রশ্নে। বাবা মা শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অস্থির হয়ে প্রশ্ন সংগ্রহ করছে। প্রশাসন জেনে না জানার ভান করছেন। ফলাফল ভাল হলেই হল। জীবনে শুরুতে যে পরীক্ষা দিতে হল তাতে যদি নকলের হাতেখড়ি হয় তবে অন্যান্য পরীক্ষায়তো নকল ছাড়া চলবেই না। এ বছর ডিগ্রী পরীক্ষার ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্ন ৭/৮ দিন আগেই ফাঁস হয়েেেছ বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পরীক্ষার হলে তাই পরীক্ষার্থীরা মুখস্থ করে যে যার মত করে লিখেছে। জনৈক পরীক্ষক বলেছেন- এবছর ইংরেজিতে প্রায় সবাই পাশ ও ভাল নম্বর পেয়েছে। এভাবেই কয়েক বছর যাবৎ সব পরীক্ষাতেই নকল আস্তানা গেরে বসেছে। ভয়ে কেউ এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারছে না। যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নকল সরবরাহ বানিজ্যের সাথে জড়িত তারা খুব প্রভাবশালী। তাই কেউ তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিতে চান না। এধরনের অনৈতিক কাজকে আমাদের ঘৃনা করা উচিত তা ভাববার লোকের সংখ্যা খুবই কম। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের অনৈতিক কাজের ক্ষতিকর প্রভাব বুঝাতে হবে। শুধু জাফর স্যার এনিয়ে আন্দোলন করলে হবে না। আমরা যারা সচেতন তাদেরকেও এ আন্দোলনে শরীক হতে হবে। সংশ্লিষ্টদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে এবং আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পরীক্ষার হলে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রাইভেট টিউশনির সাথে জড়িত শিক্ষকদের পরীক্ষার হলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাকদেও মধ্যে নৈতিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এভাবে একটি জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারিনা। ছাত্র ছ্ত্রাীদের নৈতিকতা শিখাতে হবে। নকলের কুফল সর্ম্পকে ধারনা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও এপথ থেকে ফিরে আসতে হবে সব বাধা অতিক্রম করে। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসির পরীক্ষা আর আগের মতো পরিচ্ছন্ন হয়না বলেই পাশের হার বেশি ও ফলাফল ভাল। জিপিএ-৫ এর ছড়াছড়ি। বিগত কয়েক বছর যাবত চলছে প্রতিনিয়ত নকল প্রবনতা। সবাই অবগত কিন্ত বলতে চায়না কেউ। আমরা আশা করব আর কোন পরীক্ষায় নকল হবেনা, শিক্ষকেরাও দায়িত্বশীল হবে এবং নকলের পক্ষে কোন আপোষ করব না। আমরা জেনে শুনে পরবর্তী প্রজন্মের এভাবে মেধা শুন্য করতে পারিনা। সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং এখন থেকে শুরু হোক এ মহতী উদ্যোগ।


Top