কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় স্থানটি এবার জবর দখলে চলে যাচ্ছে। মিয়নমার থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারাই দিন-রাত জবর দখল করছে বন বিভাগের মূল্যবান জয়গাটি। নাফ নদী পাড়ের নাইটং পাড়া এলাকার (টেকনাফের উড়নি হিসাবে পরিচিত) সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেস্ট হাউজ সংলগ্ন বনভূমিতে প্রায় প্রতিদিনই নতুন বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। নাফ নদী তীরে এবং পাহাড়ের পাদদেশে স্থাপিত সওজ বিভাগের রেস্ট হাইজের কারণে এলাকাটি এমনিতেই ভিআইপি এলাকা হিসাবে পরিচিত। এই রেস্ট হাউজে দেশ-বিদেশের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিরা অবস্থান করেছিলেন। রেস্ট হাউজে বসে নাফ নদী এবং মিয়ানমারের ওপারের দৃশ্য দেখতে বেশ ভাল লাগে। তাই অনেক বিখ্যাত কবি লেখকের লেখায় নাফ নদীর তীরবর্তী রেস্ট হাউজসহ এই অংশটি স্থান পেয়েছে। এলাকার লোকজনের অভিযোগ, বনকর্মীদের চোখের সামনেই রোহিঙ্গারা বস্তি নির্মাণ করছে।
কিন্তু মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা দেশের এমন একটি আকর্ষণীয় স্থানকে গড়ে তুলেছে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন এবং আবর্জনায় ভরা একটি বস্তি হিসাবে। নাফ নদী তীরের এখানেই রয়েছে টেকনাফের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়টি। এই উঁচু পাহাড়ের পাদদেশ দিয়েই টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক। টেকনাফে আগত পর্যটকদের নিকট এই স্থানটির কদরই যেন আলাদা। এখানে গাড়ি থেকে নেমেই পর্যটকরা দেখেন প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য। সেই সাথে যে নাফ নদীর পানির প্রবাহ দুই দেশের সীমানাকে পৃথক করে দিয়েছে সেই দৃশ্যও দেখার মত। আর এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানটিই রোহিঙ্গারা জবর দখল করে ফেলছে। বর্তমানে কমপক্ষে ২ শতাধিক বাড়ি ঘর এখানে স্থাপিত হয়েছে। নাফ নদী তীরের নাইটং পাড়া নামক এই স্থানটি মূলত টেকনাফ পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত।
নাইটংপাড়ার বাসিন্দা এবং পৌরসভার কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইউনুস বুধবার বিকালে কালের কণ্ঠকে জানান-‘এলাকাটি মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এবং নাফ নদী তীরবর্তী হওয়ায় রোহিঙ্গারা রাতের অাঁধারে ঢুকে পড়ে বসতি গড়ে তুলছে । বন কর্মীরা ৫/৬ মাস আগে ঘর-বাড়ি উচ্ছেদ করে দেয়ার উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় এমপি আবদুর রহমান বদির বাধায় উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। রোহিঙ্গাদের উচ্ছদ করা না হলে এই বনভুমি রাখাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ তবে এ ব্যাপারে এমপি বদির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপরদিকে রোহিঙ্গাদের গড়ে তোলা বস্তি এলাকার মাত্র কয়েকশ গজ দুরে বন বিভাগের অফিস অবস্থিত। বন বিভাগের কর্মীদের চোখের সামনেই গড়ে তোলা হচ্ছে বসি্ত। এ প্রসঙ্গে বন বীট কর্মকর্তা মীর আহমদ গতকাল বিকালে কালের কণ্ঠকে বলেন-‘এসব পুরানো ঘরবাড়ি। বারে বারে উচ্ছেদ করতে গিয়েও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবার তালিকা করে তা প্রশাসনের নিকট জমা দেয়া হয়েছে উচ্ছেদ করার জন্য। আশা করি শীঘ্রই প্রশাসন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’