আজ || বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
  গোপালপুরে ১২০০ মিটার অবৈধ চায়না জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস       গোপালপুরে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে নারীসহ ৩ জন আটক       এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনুশোচনা নেই – আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি       গোপালপুরের উন্নয়ন নিয়ে প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা       কৃষকনেতা ও সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে গোপালপুরে সিপিবির মানববন্ধন       গোপালপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কৃষক দলের বিজয় র‍্যালি       গোপালপুরের হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আল হেলাল       গোপালপুরে ২১ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট হারিয়ে গেছে, আহ্বায়ককে অব্যাহতি       প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদী খনন কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে : প্রতিমন্ত্রী টুকু       গোপালপুরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকদের সংবর্ধনা    
 


খাস কামরার খায়েশ…

বর্তমানে যে বিষয়টি আলোচনায় তুঙ্গে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল তা হলো সরকারি, বেসরকারি অফিস এবং প্রতিষ্ঠানে ‘গোপন খাস কামরা’!

আমাদের সমাজে নীতিনৈতিকতা এতটাই অবসান ঘটেছে যে, কোন অপরাধকেই অপরাধ মনে না করে, অপরাধীরা বরং বুক ফুলিয়ে অপরাধ করে থাকে। আর এসবের মূল কারণ সমাজে চরম নৈতিকতা বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।

সম্প্রতি শাফিনস ইংলিশ লার্নিং ইনস্টিটিউটের মালিক ও শিক্ষক শাফিনকে নিয়ে একটি রোস্টিং ভিডিও আপলোড করেন ইউটিউবার তাহসিন, তার ভিডিওর মাধ্যমে বিভিন্ন অপকর্ম প্রকাশ হতে থাকে, তারপর জনপ্রিয় টিভি প্রোগ্রাম তালাশের টিম শাফিনের কোচিং সেন্টারে অনুসন্ধানে গেলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে খোঁজ মেলে ‘গোপন খাস কামরা’।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে সভাপতির কক্ষে খাস কামরা বানিয়ে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে সম্প্রতি বিক্ষোভ হয়েছে।  সভাপতির কক্ষের ভেতরে খাস কামরা তৈরির বিষয়টি জানাজানি হলে, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখানে সুসজ্জিত বিছানার ‘গোপন খাস কামরা’র সন্ধান পায়।

এছাড়াও বর্তমানে দেশের এখন ভাইরালটপিক জামালপুরের ডিসির ‘গোপন খাস কামরা’। জেলা প্রশাসকের একটি অনৈতিককর্মের ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবে যা এখন ভাইরাল এবং সারাদেশের ‘টক অব দ্যা টাউন’।

জানা যায়, আহমেদ কবীর জামালপুরের জেলা প্রশাসক পদে ২০১৭ সালের ২৭ মে যোগদান করেন। যোগদানের কিছু দিনপর তার অফিসের কক্ষের পাশে ছোট্ট একটি কক্ষে, ধূমপান ও ব্যক্তিগত সরকারি গোপনীয় বৈঠকের জন্য তিনি কক্ষটি ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি  সানজিদা ইয়াসমিন সাধনাসহ বেশকিছু মেয়েকে চাকরি দিয়ে, ঐ মেয়েদের ঘনিষ্ঠজনে পরিনত হন আহমেদ কবীর। তারপর থেকেই খাস কামরায় খাট, বালিশ, চাদরসহ সবকিছুই এনে তুলেন। মূলত নিজের গোপন অনৈতিক কাজগুলো ওই কক্ষে সারতেন জামালপুরের সাবেক ডিসি। লালবাতি জ্বলাকালিন সময়ে  অফিসের ঐ ‘গোপন খাস কামরা’য় অন্যদের প্রবেশে বাঁধা ছিল।

সারাদেশে যদি তথ্যানুসন্ধানের দৃষ্টি রাখা হয়, তাহলে হয়তো আরো অসংখ্য মিলে যাবে- বিভিন্ন ধরণের অফিস ও প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান, বস, শিক্ষক বা প্রভাবশালী মহলের এমন অনেক ‘গোপন খাস কামরা’। আর এসব খাস কামরার খায়েশ মেটাতে, তারা অধীনস্থ চাকুরিতে থাকা সুন্দরী মেয়েদেরই বেশী টার্গেট করে থাকে। আর এসব মেয়েরা চাকুরী বাঁচাতে, প্রমোশনের লোভে, অফিসে দাপট ধরে রাখতে অথবা টাকার লোভে, সাধনারমতো অনেকেই প্রতিষ্ঠান প্রধান, বস, শিক্ষক বা প্রভাবশালীদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে থাকে।

অফিস চেম্বারের কালো গ্লাসের আড়ালে অথবা ‘গোপন খাস কামরা’য় কি হচ্ছে তা হয়তো অনেকেরই জানা, আবার অনেকের হয়তো অজানাই। যাদের জানা তাদের হয়তো কিছু বলার থাকেনা। চাকুরি বাঁচানোর ভয়ে এবং সব জায়গাতে তো গোপন ক্যামেরা লাগাতেও পারেনা।

তাই এধরনের অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন অফিস ও প্রতিষ্ঠানে খাসকামরা এবং চেম্বারে কালোগ্লাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক : মো. রুবেল আহমেদ

rubelusa1@gmail.com


Top