নিজস্ব প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল তালুকদার পাড়া গ্রামে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানো খাবার খেয়ে দুই শিশুসহ পরিবারের সাতজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে দুবৃর্ত্তরা আজ সোমবার ভোর রাতে সেই বাড়িতে দুর্ধষ চুরির ঘটনা ঘটায়। দুবৃর্ত্তরা ওই বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, মোবাইল ও জমির দলিলপত্র নিয়ে যায়।
গোপালপুর থানার ওসি মো. রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই বাড়িতে পর পর দুটি অপরাধ সংঘটন থেকে মনে হয় এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। পরিবার মামলা দিলে এ চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার সুত্রপাত গতকাল রবিবার সকালে। নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানো খাবার এবং খাবারের সাথে বাড়তি লবন খেয়ে পরিবারের সাতজনের বমি ও পাতলা পায়খানার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পড়শিরা রবিবার দুপুরে পরিবার প্রধান আনোয়ার হোসেন, স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন, তিন কণ্যা আরিফা বেগম, হামিদা বেগম, অনামিকা খাতুন এবং আরিফা খাতুনের দুই বাচ্চা রওশান (৮) এবং রায়েতাকে (৫) অজ্ঞান অবস্থায় গোপালপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা বেগম, আরিফা খাতুন ও তার দুই বাচ্চাকে গত রবিবার রাতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সুস্থ বোধ করায় হামিদা ও অনামিকাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়। তিনি আরো জানান, লক্ষণ থেকে বোঝা যাচ্ছিল যে, লবনের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানো হয়েছিল। সেই খাবার খেয়েই সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আরিফা বেগম জানান, রান্নাঘরে রাখা লবনের পটে কেউ বিষাক্ত বা নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়েছিল। সেই লবনে রান্না করা খাবার এবং খাবারে বাড়তি লবন খেয়ে সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
হামিদা বেগমের স্বামী স্কুল শিক্ষক শাওন চৌধুরি জানান, স্ত্রী হালিমা ও শ্যালিকা অনামিকাকে নিয়ে গত রবিবার রাত নয়টায় শ্বশুর বাড়িতে ফিরেন। সবাই পরিশ্রান্ত থাকায় রাত দশটার দিকেই তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন দুবৃর্ত্ত বারান্দার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ওয়ারড্রেব, আলমিরার পালা খুলে দুই ভরি স্বর্ণের গহনা, নগদ ৫৭ হাজার টাকা, একটি এন্ড্রোয়েড মোবাইল সেট এবং জমিজমার কিছু দলিল পত্র নিয়ে যায়। তারা ঘরের সব কিছু তছনচ করে। দুবৃর্ত্তরা যাওয়ার সময় তার ঘুমন্ত স্ত্রীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ডাকচিৎকারে পড়শিরা এগিয়ে এলে কেটে পড়ে। তিনি আরো জানান, বাড়িতে চুরি করার জন্যই গত শনিবারে রাতে দুবৃর্ত্তরা লবনের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে রেখেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গোপালপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই চন্দন বাবু জানান, গতকাল বিকালে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের সাথে কথা বলেন। গত রবিবার রাত দশটার দিকে থানার টহল পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে রাতে সকলকে সজাগ থাকার জন্য সতর্ক করে আসেন। কিন্তু রাত সাড়ে তিনটার দিকে দুবৃর্ত্তরা গ্রীল কেটে ঘরে ঢুকে চুরির সাহস দেখায়। আজ সোমবার সকালে দশটায় পুলিশ ওই বাড়ি পরিদর্শন এবং ভিক্টিম পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজ করছে। পারিবারিক শত্রুতা থেকেও এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি অনুমান করছেন। আলামত হিসাবে কৌটা থেকে লবন সংগ্রহ করা হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য হালিম মিয়া জানান, ইদানিং এক শ্রেণীর দুস্কৃতকারি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাতের বেলায় গৃহস্তের রান্না ঘরের লবনের সাথে বিষাক্ত বা নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে রাখে। সেই লবনে রান্না করা খাবার বা বাড়তি লবন খেয়ে সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়লে সব কিছু চুরি করে নিয়ে যায়। এটিও তেমন ঘটনা বলে তিনি মনে করেন।