আজ || বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
  গোপালপুরের সেই বাড়িতে দুর্ধষ চুরি, এলাকায় আতঙ্ক       গোপালপুরে লবণের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য; শিশুসহ একই পরিবারের ৭ জন হাসপাতালে       এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনুশোচনা নেই – আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি       গোপালপুরের উন্নয়ন নিয়ে প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা       কৃষকনেতা ও সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে গোপালপুরে সিপিবির মানববন্ধন       গোপালপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কৃষক দলের বিজয় র‍্যালি       গোপালপুরের হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আল হেলাল       গোপালপুরে ২১ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট হারিয়ে গেছে, আহ্বায়ককে অব্যাহতি       প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদী খনন কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে : প্রতিমন্ত্রী টুকু       গোপালপুরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকদের সংবর্ধনা    
 


গোপালপুরে ঝিনাই সেঁতুতে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় নিদারুণ ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদীর উপর সতেরো কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত পিসি গার্ডার সেঁতুটি যানবাহন পারাপারে কাজে আসছে না। সেঁতুর উভয় পাড়ে এপ্রোচ রোড পাকা না থাকায় এমন ভোগান্তি। সংযোগ সড়ক অংশে কিছু বালু ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, আশির দশকে নির্মিত এখানকার বেইলি ব্রিজ যানবাহনের চাপে জরার্জীন ও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পার হতে গিয়ে বহু মানুষ হতাহত হয়। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের হলে সওজ বিভাগ বেইলী ব্রিজ ভেঙ্গে প্রায় একশ ফিট দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৪ সালের শুরুতে নির্মাণ কাজের উদ্ধোধন হয়। কাজ পায় ওয়াহিদ কনষ্ট্রাকশন।

ঠিকাদার কামাল হোসেন জানান, কাজের শুরুতেই চাঁদাবাজদের পাল্লায় পড়েন। চাঁদার দাবিতে কর্মচারিদের কয়েক দফা মারপিট করায় কাজ কিছু দিনের জন্য বন্ধ থাকে।   ব্রিজের কাজ এখন প্রায় শেষ। কিন্তু সওজ ফান্ড সংকটের অজুহাতে বকেয়া বিল না দেয়ায় অর্থাভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ব্রিজের উভয় অংশে ১২০ মিটার দীর্ঘ ড্রেইন, নদীভাঙ্গন থেকে ব্রিজ রক্ষায় ব্লক স্থাপন এবং এপ্রোচ রোড পাকা করা বাকি।

ঝাওয়াইল বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, ব্রিজের পূর্ব পাড়ে টাঙ্গাইলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ২০১ গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। প্রতিদিন বিশেষ করে শুক্রবারসহ ছুটির দিনে হাজারো পর্যটক এটি পরিদর্শন এবং  নামাজ আদায়ে আসেন। টানা দুই বছর ধরে ব্রিজ নির্মাণ চলমান থাকায় কোন যানবাহন নদীর পশ্চিম পাড়ে যেতে পারেনা। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। নদীর পশ্চিম পাড়ে ব্যবসা কেন্দ্র ঝাওয়াইল বাজার এবং এর আশপাশে একটি বয়েজ ও একটি গার্লস হাইস্কুল, দুটি প্রাইমারী স্কুল, তিনটি মাদ্রাসা, দুটি ব্যাংক, একটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, তহশীল অফিস, পোষ্ট অফিস এবং তিনটি এনজিও অফিস অবস্থিত। নদীর পূর্ব পাড়েও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাদ্রাসা রয়েছে। ঝাওয়াইল বাজারে বিপুল সংখ্যক হাটুরে ছাড়াও হাজারো শিক্ষার্থী, অফিস কর্মচারি এবং পর্যটককে নদী পারাপারে নিদারুন ভোগান্তি পোহাতে হয়।

টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, ঝিনাই নদীর এ ব্রিজ দুই জেলার আন্তঃ সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ী থেকে গোপালপুর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বাইপাস সড়ক তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পিংনা নামক স্থানে যুক্ত হয়েছে। আগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ট্রাক-বাস ছাড়াও হাজারো যানবাহন যাতায়াত করতো। কিন্তু ঝিনাই ব্রিজ নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় এবং এখন সামান্য কাজ ফেলে রাখায় টানা দুই বছর ধরে দুই জেলায় পণ্য পরিবহন ও সড়ক পথে যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সওজ মধুপুর উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল মাহমুদ জানান, পিএমপি (মেজর সেতু-কালভার্ট) প্রকল্পের আওতায় ঝিনাই নদীর ঝাওয়াইল ব্রিজ নির্মানের কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন সড়কের উভয় পাশে কিছু খাস জমি জবরদখলে রয়েছে। এসব জমি পুনরুদ্ধার করার জন্য গোপালপুর উপজেলা প্রশাসনকে তিন সপ্তাহ আগে চিঠি দেয়া হয়েছে। জবরদখলী ভূমি পুনরুদ্ধার হলেই এপ্রোচ রোডসহ অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিল্লুর রহমান জানান, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ব্রিজটি চালু না হলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও আনুসঙ্গিক কাজ বিঘ্নিত হবে। দ্রুতই খাস জমি পুনরুদ্ধার করা হবে।


Top
error: Content is protected !!