আজ || বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম :
  গোপালপুরে কোটা বিরোধীদের বিপক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ       গোপালপুর প্রেসক্লাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়       গোপালপুরে শতাধিক নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস       গোপালপুরে বর্নাত্যদের জন্য ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প       গোপালপুরে বন্যায় পানীয় জলের সংকট, তবে ক্ষতিগ্রস্তরা পাচ্ছে পর্যাপ্ত ত্রাণ       গোপালপুরে ভূয়া নামজারি ও জাল খতিয়ান তৈরি চক্রের দুই সদস্য আটক       টাঙ্গাইল জেলা সমিতি ঢাকা’র নবনির্বাচিত সভাপতি ইব্রাহীম, সম্পাদক হিরণ       গোপালপুরে বৃত্তি প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ       গোপালপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন       গোপালপুরে ভূমি সেবা সপ্তাহে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ    
 


মন্দাবাজারে হুমকির মুখে মার্চেন্ট ব্যাংক

শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ইস্যু ম্যানেজমেন্ট, আন্ডাররাইটিং, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা এবং মার্জিন লোন প্রদান এই ৪টি প্রধান কর্তব্য হলেও দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে কোনো কোনো মার্চেন্ট কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে দূরে সরে দাঁড়াচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে সিটি গ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড মার্চেন্ট ব্যাংকিং লাইসেন্স সারেন্ডার (সমর্পন) করেছে। গতকাল ৪৬৫তম সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সমর্পনের আবেদন অনুমোদন করেছে।

বাজার যখন স্বাভাবিক থাকে তখন অনেক প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকিং লাইসেন্সের জন্য বিএসইসিতে ধর্ণা দেয়। মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও মার্চেন্ট ব্যাংকিং লাইসেন্স পাওয়া যায় না। অথচ বর্তমানে উল্টো পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিএসইসি’র কাছে ধর্ণা দেয়া হচ্ছে মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার আবেদন মঞ্জুরের জন্য।

এ ব্যাপারে মার্চেন্ট ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শেয়ারবাজারে মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম অনুযায়ী বছরে একটি অথবা ২টি নতুন ইস্যু বাজারে আনতে হয়। শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে ওই ব্যাংকের উপর লাইসেন্স বাতিলের খড়গ নেমে আসতে পারে। ব্যবসায় যদি সুবিধা করতে না পারে তাহলে মূল ব্যবসাকে প্রধান্য দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। তবে লাইসেন্স সমর্পন করার ক্ষেত্রে আরো বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। তবে গত ২ বছর ধরে বাজারে যে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে এতে করে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবসা লোকসানে চলে গেছে। এমতাবস্থায় ব্যবসা গুটিয়ে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

 

জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে ব্যাপক ধসের কারণে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। ২০০৮-০৯ সালে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ইস্যু আনার ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিয়েছিল। তবে ২০১০-১১ সালে প্রয়োজন অনুযায়ী মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নতুন ইস্যু আনতে সক্ষম হয়নি। ফলে বাজারে শেয়ারের যোগানের সঙ্গে চাহিদার অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হয়। এতে করে অধিকাংশ শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ে। তবে ২০১২ সালজুড়ে বাজারে নতুন ইস্যু আনার ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। চাহিদামতো প্রিমিয়াম না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের আগ্রহ দেখায়নি। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান উচ্চ প্রিমিয়ামের আশায় তালিকাভুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও সেগুলোকে বাজারে আনা যায়নি। তবে কোনো কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক শেয়ারবাজারে ব্যবসায়িক দিক থেকে সফল হলেও অধিকাংশই নতুন ইস্যু আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় কেনো কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝে এ ধরনের ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর বর্তমানে বিএসইসি কর্তৃক অনুমোদিত ৫৩টি মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে।

সিটিগ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারনিউজ ২৪ডটকমকে জানান, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক প্রবনতা অব্যাহত থাকায় নতুন ইস্যু আনাসহ মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাছাড়া এ প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকার সিটি ব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গত ৪-৫ বছর আগে গ্রামীনফোন কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছিল। এখন তারা নতুন করে অন্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম জোরদার করার কারণে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। এমনটি মনে করছেন এ কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!