আজ || শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম :
  গোপালপুরে কোটা বিরোধীদের বিপক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ       গোপালপুর প্রেসক্লাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়       গোপালপুরে শতাধিক নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস       গোপালপুরে বর্নাত্যদের জন্য ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প       গোপালপুরে বন্যায় পানীয় জলের সংকট, তবে ক্ষতিগ্রস্তরা পাচ্ছে পর্যাপ্ত ত্রাণ       গোপালপুরে ভূয়া নামজারি ও জাল খতিয়ান তৈরি চক্রের দুই সদস্য আটক       টাঙ্গাইল জেলা সমিতি ঢাকা’র নবনির্বাচিত সভাপতি ইব্রাহীম, সম্পাদক হিরণ       গোপালপুরে বৃত্তি প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ       গোপালপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন       গোপালপুরে ভূমি সেবা সপ্তাহে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ    
 


যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি সুখবর

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, অর্থনৈতিক নীতিমালা বিষয়ে সমঝোতা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া সত্ত্বেও অভিবাসন নীতিমালা ঢেলে সাজানোর বিষয়টিকে এ বছরে অগ্রাধিকারে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা আরো জানান, অভিবাসন বিষয়ে উদার প্রস্তাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা নীরবে কাজ করছেন। হোয়াইট হাউস এবং ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলীয় আইন প্রণেতারা বিশ্বাস করেন, ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমাংশেই অভিবাসন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বা তার `স্টেট অব ইউনিয়ন`-এর ভাষণে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার অভিবাসন বিষয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে হোয়াইট হাউস অবৈধদের বৈধতার বিষয়টি `অ্যামনেস্টি` (সাধারণ ক্ষমা) হিসেবে বিতর্কে আনবে না বলে সমালোচনাকারীরা বলেছেন। কারণ এক্ষেত্রে অবৈধদের বৈধতা পাবার ক্ষেত্রে জরিমানা, বকেয়া কর এবং বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার বিষয়টি সংযুক্ত থাকবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। দেশব্যাপী কর্মসংস্থানে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈধ স্ট্যাটাস যাচাইয়ে, ব্যাকলগ কাটাতে বাড়তি ভিসা ইস্যু, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন অভিবাসীদেরকে থাকার অনুমতি এবং ভবিষ্যতের জন্য ন্যূনতম বেতনে কর্মশক্তি আমদানিতে `গেস্ট ওয়ার্কার` কর্মসূচিও আরোপিত হবে প্রেসিডেন্ট ওবামার এই পরিকল্পনায়।

বৈধ কাগজ পএহীন অভিবাসীদের বৈধতায় অবশেষে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।শিঘ্রই এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীর নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। বৈধ কাগজপত্রহীন এসব অভিবাসীকে বৈধতা দিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতেই এ বিষয়ে কংগ্রেসে আলোচনা, প্রস্তাবনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে। ওবামা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে বিক্ষুব্ধ জনমতের কারণে ওবামার প্রথম মেয়াদে এমন আরেকটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু অবৈধ অভিবাসীদের পক্ষে-বিপক্ষের সমর্থকরা বলছেন, সত্যিকার অর্থেই পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। এছাড়া নির্বাচনের পর রিপাবলিকান দলীয় সদস্য স্পিকার জন বোয়েনার বলেছিলেন, দলের জন্য এখন অভিবাসন বিষয়ে আরো ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ওদিকে, ইমিগ্রেশন নীতিমালা ঢেলে সাজানোর পক্ষে বিভিন্ন সংগঠন বলেছে তারা আগের চেয়ে আরো সুসংগঠিত। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমজীবীদের সংগঠনসহ অন্য সংগঠনগুলো একটি অভিন্ন কৌশলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার্স অব কমার্স বলেছে, এ বছরেই ইমিগ্রেশন নীতি মালা ঢেলে সাজাতে চেম্বার্স অব কমার্স শ্রমিক ইউনিয়ন, ল্যাটিনো এবং চার্চ সংগঠনগুলোর সাথে কাজ করবে।গত বৃহস্পতিবার চাক শুমার নিউইয়র্ক টাইমসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ডেমোক্রেটরা একথা পরিষ্কার বলেছে, অবৈধদের নাগরিকত্ব অর্জনে সরাসরি পথ নিশ্চিত ছাড়া কোন প্রস্তাবই গ্রহণ করবে না। তিনি আরো বলেন, ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলই আশান্বিত হয়েছে যে, এত দ্রুত আলোচনা এগুচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ সুগম করতে `অভিবাসন আইন` ঢেলে সাজানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী মাসেই কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাগাদা দেবেন। এ সংক্রান্ত ওবামা প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেট `ইমিগ্রেশন (অভিবাসন) কম্প্রেহেনসিভ` অভিন্ন বিলের পরিবর্তনে নতুন কিছু প্রস্তাবনা যোগ করবেন। এই বিলে তরুণ অবৈধ অভিবাসী, স্থানান্তরিত কৃষিকর্মী অথবা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশিদের বৈধতা দেয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে, যা রিপাবলিকান দলের সদস্যদের বিরোধিতার ক্ষেত্রকে অনেকটা নিষ্ক্রিয় রাখতে সহজ করবে। মার্চেই অভিবাসন বিলটি উত্থাপন ও আগস্টের আগেই আইন পাসের লক্ষ্যে এই ইমিগ্রেশন কম্প্রেহেনসিভ বিল লেখার কাজে ইতোমধ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় দলীয় সিনেটরদের একটি গ্রুপ বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সিনেট সূত্র জানিয়েছেন, অভিবাসন ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের আন্তরিক উৎসাহের কারণেই হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সিনেটের ডেমোক্রেট দলীয় নেতৃবৃন্দ সমঝোতার উপনীত হওয়ার চেষ্টা করেছেন, যাতে প্রথমেই একটি বিল উত্থাপন করা সম্ভব হয়। এদিকে উভয় দলীয় আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত সিনেটর চাক শুমার বলেন, বিষয়টি (ইমিগ্রেশন) দুই দলের কাছেই এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, অর্থনৈতিক ইস্যু ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কোনটাই সফল হবে না। হোয়াইট হাউসের উদ্যোগের পাশাপাশি নিউইয়র্কের সিনেটর চাক শুমার, সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম অভিবাসন বিল লেখার কাজে অন্তত আরো ৪ জন সিনেটরের সাথে বৈঠক করেছেন। রিপাবলিকান দলীয় প্রভাবশালী সিনেটর জন ম্যাকেইন ইতিপূর্বে কম্প্রেহেনসিভ ইমিগ্রেশন আইনের প্রতি তার সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়াও গত মাসে আরিজোনার সিনেটর জেফ ফ্লেক, ইউথা`র সিনেটর মাইক লি, ফ্লোরিডার সিনেটর মারকো রুবিয়ো এর পক্ষে মত দেন। ডেমোক্রেটরা এখন ইলিনয়ের বেচার্ড ডারবিন, নিউজার্সির সিনেটর রবাট মেনেন্ডাজ ও কলারাডোর মাইকেল বেনেটের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!