আজ || রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৩
শিরোনাম :
  গোপালপুরে বেগম রোকেয়া দিবস পালনসহ জয়িতাদের সংবর্ধনা       গোপালপুরে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন       গোপালপুরে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’র (SEIP) কর্মশালা       গোপালপুরে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহের এ্যাডভোকেসি সভা       গোপালপুরে কয়েলের আগুনে পুড়ে মারা গেছে কৃষকের ৩ গরু       গোপালপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ম্যাজিস্ট্রেট       গোপালপুরে বনায়নের নামে সরকারি অর্থের বৃক্ষচারা গরু-ছাগলের পেটে       গোপালপুরের অদম্য মেধাবী সামির সম্ভাবনার গল্প       গোপালপুরে গর্ভবতী গাভী জবাই করে গোস্ত নিয়ে রেখে গেছে মৃত বাছুর       গোপালপুরে ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবস পালন    
 


নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাংক ঋণে সরকার সতর্ক

নির্বাচনের আগে স্বাভাবিকভাবেইসরকারের ব্যয় বেড়ে যাবে।নির্বাচন সামনে রেখে মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ারক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়েউল্টো আগের ঋণ শোধ করা চলছে।

বাংলাদেশব্যাংকের গবেষণা বিভাগের অর্থ ও ব্যাংকিং উপ-বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে আট হাজার ৫৭২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে।এর মধ্যেতফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৬২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আরবাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের নেওয়া ঋণের দুই হাজার ৫৫ কোটি ছয় লাখ টাকা শোধকরা হয়েছে।এ হিসাবে এই ছয় মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারেরনিট ঋণের পরিমান হচ্ছে আট হাজার ৫৭২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের(২০১১-১২) একই সময়ে যা ১৩ হাজার ৩০৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ছিল।বাংলাদেশউন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিতে থাকলেঅনেক সময় টাকা ছাপিয়ে সেই ঋণ সরবরাহ করতে হয়। সেক্ষেত্রে বাজারে টাকারসরবরাহ বেড়ে যায়, বেড়ে যায় দ্রবমূল্য। স্বাভাবিক নিয়মে মূল্যস্ফীতি ও বাড়ে।” এ কারণে গত এক বছর ধরে সরকারের ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের থাকারবিষয়টিকে ইতিবাচক বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তবে তার আশঙ্কা, নির্বাচনীবছর হওয়ার ২০১৩ সালের দ্বিতীয় ভাগে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা আবার বেড়েযেতে পারে।“এখন সরকারের ব্যয় কম হচ্ছে। খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছেনা। জ্বালানি তেল আমদানি খাতে ব্যয় কম হচ্ছে। সবমিলিয়ে সরকারের ব্যাংক ঋণএখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।“কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে জনতুষ্টির জন্য সরকার নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নেবে। পুরো বাজেট বাস্তবায়নকরতে চাইবে। তখন ব্যয় বেড়ে যাবে। সে সব ব্যয় মেটাতে সরকার ব্যাংকের দারস্থহবে। বেড়ে যাবে ঋণ।” অবশ্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আশা করছেন, ব্যাংকে থেকে ঋণ নেয়ার পরিমাণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেইসীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে।অন্যদিকে ব্যাংক বহির্ভূত উৎস (জাতীয় সঞ্চয়পত্র) থেকে প্রাপ্তি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও আগামীদিনগুলোতে বিক্রি বাড়াতে আমরা প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশিব্যাংক নেয়া ঋণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহতথাকবে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৯৯ কোটি ৫৪লাখ টাকা। গত জুনে এর পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ৮২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা।এইহিসাবে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার নিট আট হাজার ৫৭২কোটি ৩৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। গত বছরের একই সময়ে নিয়েছিল ১৩ হাজার ৩০৭ কোটি৩১ লাখ টাকা।গত বছর ব্যাংক ঋণ নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনার মুখে পড়তেহয়েছিল সরকারকে। অর্থনীতিবিদ, গবেষক, ব্যবসায়ী নেতাদের পাশপাশি বিরোধীদলীয়নেতা খালেদা জিয়াও সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।২০১১-১২অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা ধরাহলেও পরে তা ২৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।

আর চলতিঅর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৩ হাজার কোটিটাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করেছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র প্রকল্পগুলো থেকে ঋণ নেওয়ারলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!