বিদায়ী বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই হত্যাকাণ্ডের দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন খুনিদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ‘প্রণিধানযোগ্য’ অগ্রগতির কথা বলেন। কিন্তু গত ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আদালতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নেয়। প্রভাবশালীকে বাঁচাতে আসল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। পরে উচ্চ আদালত র্যাবকে মামলার তদন্ত করার নির্দেশ দেন। র্যাবের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল এ মামলার তদন্ত তদারক করছে। তদন্তভার পাওয়ার পর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র্যাব। আর গ্রেপ্তার করেছে সাতজনকে। এ ছাড়া ১৩ জন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের নমুনা মেলেনি। এখন সাতজনের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সর্বশেষ পাঠানো হয়েছে ব্যবসায়ী তানভীর ও পলাশ রুদ্র পালের ডিএনএ নমুনা। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই এখন কারাগারে আছেন। তবে এঁরা কেউই এখন পর্যন্ত হত্যার কথা স্বীকার করেননি।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে বছরজুড়ে বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকেরা। সরকারের একাধিক প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই খুনের ঘটনার রহস্যভেদ ও হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এত দিনেও এর কোনো কূলকিনারা হয়নি। পুরো ব্যাপারটি দিন দিন আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখন নীরব হয়ে গেছেন র্যাব-পুলিশের কর্মকর্তারা। এ নিয়ে এখন আর তাঁরা কোনো কথা বলতে চান না। র্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানালেন, এত দিনেও এ মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সবাই বিপাকে পড়েছেন। এ কারণে তাঁরা গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন।