আজ || বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
  শিপন রানা ৪৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম       নুরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কর্মশালা       গোপালপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরী মিটিং       গোপালপুর পৌরশহরের বৈরাণ সেঁতুর জীর্নদশা; নির্মাণ প্রকল্প ফাইলবন্দী       ঘাটাইল উপজেলাসহ জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বাসুদেব পাল       শিক্ষার্থী মুনের অনেক গুণ       গোপালপুরে ডাকবাংলোতে ঝুঁকি নিয়ে অতিথিদের রাত যাপন       গোপালপুরে স্কুল শিক্ষিকার বাসায় ডাকাতি       গোপালপুরে ঝিনাই সেঁতুতে সংযোগ সড়ক না হওয়ায় নিদারুণ ভোগান্তি       গোপালপুর উপজেলা পরিষদ স্কুলে ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ    
 


নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফারণে ৫০ মুসুল্লি দগ্ধ

ডেক্স নিউজ :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে শুক্রবার এশার নামাজের সময় মসজিদের ৬টি এসি পরপর বিস্ফোরিত হয়ে, অন্তত ৫০ জন মুসুল্লি অগ্নিদগ্ধ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানান, এশার ফরজ নামাজের পর রাত পৌনে ৯টার দিকে অনেক মুসুল্লি সুন্নত নামাজ পড়ছিলেন।  তখনই ওই মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
দগ্ধদের মধ্যে মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক (৬০) এবং মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেনসহ ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া প্রায় সবার অবস্থাই অনেকটা ‘আশঙ্কাজনক’।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ফতুল্লা থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সময় মসজিদের ভেতরে প্রায় অর্ধশতাধিক মুসুল্লি এশার সুন্নত নামাজ পড়ছিলেন। মসজিদে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে ভেতরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। মসজিদের ভেতরে যারা ছিলেন, তারা প্রায় সবাই কমবেশি দগ্ধ হয়েছেন। মসজিদ থেকে বেরিয়ে এসে এসময় বহুমানুষ রাস্তায় জমে থাকা পানিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন গায়ের আগুন নেভানোর জন্য।”

ফায়ার সার্ভিস জানান, “শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ওই মসজিদে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
মসজিদে দেড় টনের ৬টি এসি ছিল। সবগুলো এসি একসাথে বিস্ফোরিত হয়ে পুড়ে গলে গেছে। সবগুলো জানালার কাচ ফ্রেমসহ উপড়ে গেছে দেয়াল থেকে। ফ্যান, বিদ্যুতের তার ও প্যানেল বোর্ডও দেখা গেছে পোড়া অবস্থায়। মসজিদের ভেতরের বাতাসে এসিতে ব্যবহৃত ফ্রেয়ন গ্যাসের অস্থিত্ব পাওয়া গিয়েছে।
এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে, চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহুমানুষ সেখানে ভিড় করেন কী হয়েছে বোঝার জন্য। মসজিদের বাইরে বহু মানুষকে গড়াগড়ি খেতে দেখা যায়, তাদের শরীর ছিল পোড়া। পরে স্থানীয়রা এবং ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, “এই এলাকায় তিতাসের গ্যাসের পাইপে ‘লিকেজ’ ছিল বহুদিন ধরে। মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমে কোনোভাবে কিছু ঘটেছে কি না, সেই সন্দেহের কথা বলেন তারা।”

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আরেফিন বলেন, “ওই মসজিদের সামনে তিতাস গ্যাসের লাইনে লিকেজ আছে, এটা আমরাও দেখেছি। আসলে কী ঘটেছে, সেটা তদন্ত করে তারপর বলা যাবে।”

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!