আজ || শুক্রবার, ২১ Jun ২০২৪
শিরোনাম :
  গোপালপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন       গোপালপুরে ভূমি সেবা সপ্তাহে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ       হেমনগরে বর্ধিত সভায় দোয়াত কলম প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের ঢল       রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডিজাইনকৃত পোশাক নিয়ে ফ্যাশন প্রদ‍‍র্শনী       গোপালপুরে দারোগার মাথা ফাটানোর ঘটনায় ১৬ জনকে জেলহাজতে প্রেরণ       গোপালপুরে দারোগার মাথা ফাটিয়েছে সন্ত্রাসীরা; গ্রেফতার ১০       গোপালপুরে প্রধানমন্ত্রীর ফেয়ার প্রাইজের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ       গোপালপুরে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেনের পদত্যাগ       উত্তর টাঙ্গাইল নূরানী মাদরাসার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান       গোপালপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন    
 


সংগ্রাম শুরু হয়েছে, দেশ রক্ষার আন্দোলনে জালিম সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানঃ খালেদা জিয়া

বাংলাদেশ টাইমসঃ ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের জেগে ওঠার আহবান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ যে অরাজকতা শুরু করেছে মনে হচ্ছে দেশটা তাদের পৈতৃক সম্পদ। তিনি বলেন, সংগ্রাম শুরু হয়েছে। দেশ রক্ষার আন্দোলনে অত্যাচার-জালিম সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, জেগে উঠুন, নতুন প্রজন্মও আপনাদের সঙ্গে যোগ দেবে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাধীনতার পর ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এ জন্য তাদের বিচার হওয়া উচিত। আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করেনি। এরা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো কিছু চিন্তা করতে পারে না।

উপদেষ্টা-মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারের সকলেই চোর উল্লেখ করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, যেখানেই কমিশন সেখানেই আওয়ামী লীগ। কান টানলে মাথা আসবে বলে দুই আবুলকে বাদ দিয়ে পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলা হয়েছে।

সরকারের দলীয়করণ, টেন্ডারবাজি, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি কেলেঙ্কারিসহ সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন। আওয়ামী লীগের নির্দেশে ছাত্রলীগ বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে।

সরকারের সমালোচনা করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী দলকে মিছিল-মিটিং-সমাবেশ করার জন্য অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সত্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে হয়রানি করা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজবীন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া জানান, এদিকে সরকারের খেয়াল নেই যে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। কমিশন পাওয়ার জন্য সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করছে।

সরকার ভয় পায় বলেই আজকের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের বাধা দিয়েছে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এ অনুষ্ঠানে আসার জন্য যদি কারো নাম কাটা হয় তাহলে ভবিষ্যতে তাদের নাম যোগ করা হবে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের লোক জেলে আটকে রেখেছেন। এতে বিএনপি থেকে লোক কমবে না। একজনকে বিয়োগ করবেন, দশজন এসে দলে যোগ দেবে।

দেশের মানচিত্র বদলের ষড়ন্ত্র চলছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চাই, বিদেশে আমাদের বন্ধু রয়েছে, প্রভু নেই। কিন্তু সরকার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে প্রভুদের নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। সীমান্তে ফেলানীর লাশ ঝুললেও সরকার তার প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

প্রায় ৩০ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, কারো আধিপত্যে দেশ চলবে না। সবাইকে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। জনগণ তাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত করবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি ড. অলি আহমেদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন। [টাইমস রিপোর্ট।ফায়সাল/আরবি/রায়হান/এএফ]

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!