নিজস্ব সংবাদদাতা :

গত সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মাহমুদপুর গনহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পাকহানাদার বাহিনীর একটি দল দুই শতাধিক রাজাকার ও আলবদর সদস্যকে নিয়ে গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে মাহমুদপুর গ্রামে আসে। হানাদাররা বঙ্গবন্ধুর সহচর ও নির্বাচিত এমএনএ হাতেম আলী তালুকদারের বাড়িতে প্রথম অগ্নিসংযোগ করে। পরে শুরু করে লুটপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ। হানাদার বাহিনী চাতুটিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পৌঁছলে ধনবাড়ি উপজেলার পানকাতা হাইস্কুল প্রাঙ্গনে অবস্থান করা কাদেরিয়া বাহিনীর কোম্পানী কমান্ডার হুমাযূন বেঙ্গলের নেতৃত্বে স্বল্প সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়। কিন্তু যুদ্ধের রসদ ফুারিয়ে গেলে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর হানাদার বাহিনী এলাকায় নরহত্যা শুরু করে। তারা শতাধিক নিরীহ মানুষকে আটক করে পানকাতা গ্রামের ঈদগাঁহ মাঠে নিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে। এদের মধ্যে ১৮ জন শহীদ হন। অবশিষ্টরা গুরুত্বর আহত হয়। নিহতদের মধ্যে এমএনএ হাতেম আলী তালুকদারের কনিষ্ঠ ভ্রাতা হায়দার আলী তালুকদার ছিলেন অন্যতম। হতাহতরা পঙ্গু হয়ে অনেকেই এখনো বেঁচে রয়েছেন। তারা কখনো সরকারি সাহায্য পায়নি।

দিনটি উপলক্ষে পানকাতা হাইস্কুল মিলনায়তনে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার। মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার খসরু তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গোপালপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার আব্দুছ ছোবহান তুলা, গোপালপুর প্রেসক্লাব সভাপতি জয়নাল আবেদিন, ধনবাড়ী প্রেসক্লাব সভাপতি স ম জাহাঙ্গীর, ঢাকা রির্পোটার ইউনিটির সম্পাদক ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সিনিয়র রির্পোটার ইলিয়াস হোসেন, শিক্ষক নেতা শফি তালুকদার প্রমুখ।
সম্পাদক : অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন | নির্বাহী সম্পাদক : কে এম মিঠু
প্রকাশক কার্যালয় : বেবি ল্যান্ড, বাজার রোড গোপালপুর, টাঙ্গাইল -১৯৯০, বাংলাদেশ।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত - ২০১৯-২০২৩