আজ || বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম :
  গোপালপুরে কোটা বিরোধীদের বিপক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ       গোপালপুর প্রেসক্লাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়       গোপালপুরে শতাধিক নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস       গোপালপুরে বর্নাত্যদের জন্য ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প       গোপালপুরে বন্যায় পানীয় জলের সংকট, তবে ক্ষতিগ্রস্তরা পাচ্ছে পর্যাপ্ত ত্রাণ       গোপালপুরে ভূয়া নামজারি ও জাল খতিয়ান তৈরি চক্রের দুই সদস্য আটক       টাঙ্গাইল জেলা সমিতি ঢাকা’র নবনির্বাচিত সভাপতি ইব্রাহীম, সম্পাদক হিরণ       গোপালপুরে বৃত্তি প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ       গোপালপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন       গোপালপুরে ভূমি সেবা সপ্তাহে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ    
 


বঙ্গঁবন্ধুর ভাষণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

qweergtdrgt

বঙ্গঁবন্ধুর ভাষণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
-অধ্যাপক ড. শেখ জিনাত আলী

জাতির জনক বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ দূর্দশন পর্দায় শুনছি ও বঙ্গঁবন্ধুকে পর্দায় দেখছি। তাঁর ১৯-২০ মিনিটের বক্তৃতাটি লিখিত ছিল না। তিনি বললেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’ এই বক্তব্যটি তিনি কোন প্রেক্ষাপটে দিলেন তা জানবার বোঝবার অনুরোধ জানাই বর্তমান প্রজন্মকে। কেন না এই প্রজন্মই বর্তমান দেশের দুই তৃতীয়াংশ। আমার মত যারা বেঁচে আছি এখনো তারা দ্রুত অস্তাচলের দিকে ধাবমান। সেই ১৯৭১র ৭ই মার্চ যে উচ্চারণ তিনি করলেন তার বাস্তবায়ন ১৯৭২র সংবিধান প্রণয়নের পর শুরু হয়েছে এবং আমরা তাতে অংশগ্রহণ করেছি সাধ্যমত যার যার অবস্থান থেকে। সেখানে রাজনৈতিক দলের কথাটি চলে আসে এবং সেই অবস্থানে আওয়ামী লীগ বাম-কমিউনিষ্ট ও অন্যান্য কৃষক-শ্রমিক-বুদ্ধিজীবী আপামর জনগণ, বাঙালি জনগোষ্ঠী। সাথে ছিল আদিবাসী নৃতাত্বিক জনসাধারণ এবং এখনো তারা আমাদের সাথেই আছেন। জাতি হিসেবে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি এবং সফলতাও আছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ উত্তর বাংলাদেশে যে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ড বঙ্গঁবন্ধু হত্যার মধ্যদিয়ে সূচনা হয় তা আজও বিদ্যামান। এটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েও ছিল খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে ; কিন্তু বঙ্গঁবন্ধুর অবর্তমানে জনাব তাজ উদ্দিন আহমদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হওয়ার কারণে অন্যান্য প্রগতিশীল দল ও শক্তি-গোষ্ঠীর একযোগে কাজ করার মাধ্যমে আমরা সফলতার দ্বার উন্মোচন করি। আমাদের সহায়তা-সাহায্যে এগিয়ে আসে ভারত, তৎকালের সোভিয়েত ইউনিয়নসহ সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দল ও ব্যক্তিবর্গ। এই শিক্ষাটা মনে রেখে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই ঐক্য গড়তে হবে। মনে রাখতে হবে সেদিন যারা মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি বিরোধীতা করেছিল তারা আজও বন্ধুবেশে না না কৌশলে ও উছিলায় আমাদের রাষ্টযন্ত্রের বর্তমান ধারার শাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করছে। তারা বিশ্বায়নের নামে আমাদের প্রশাসনের সর্বপর্যায়ে খবরদারি করছে পোষাকশিল্পের প্রসারে তথা কথিত অগ্রাধিকারের সাধারণ পদ্ধতির পশ্নে না না শর্ত জুড়ে দিচ্ছে ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিকদের অঘাচিত বন্ধুর ছদ্যাবরণে। ড্যান ডব্লিও মজিনা এমন কথা বলছেন না কখনো যা কুটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গেঁর সামিল নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গায়ের জোরে উপদেশ দিয়ে আমাদের শাসকদের শাসন করতে ছাড়ছেন না, অথচ এই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থোদ ইউরোপেই সমালোচিত হচ্ছে সেই জন্মলগ্ন থেকেই আমি তা প্রত্যক্ষ করি সে সময় ভিয়েনায় অবস্থান কলে। ক’দিন আগে এক অবসরপ্রাপ্ত আমাদের কুটনীতিককে দূর্দশন পর্দায় বলতে শুনলাম ২০১৪ খ্রীষ্টাব্দে ইউক্রেইনকে নিয়ে যে খেলা খেলছেন তাই নাকি ২০১৫তে বাংলাদেশে খেলার পায়তারা করছেন এই ইউনিয়ন। ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের দিক থেকে বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্র তাদের খুবই প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাচনকে নিয়ে তারা এমন কিছু করার ফন্দি আঁকছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে অভিজ্ঞ মহলে। ভারতের লোকসভা নির্বাচনের দিকে তারা তাকিয়ে আছে।

তাই কিছু কথা সরকার ও মহাজোটকে লক্ষ্য করে বলতে চাই। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বিশেষ করে ছাত্র লীগকে সামলান দয়া করে। মনে রাখবেন ঘরের শত্রু বিভীষণ। বাংলাদেশী জাতীয়তার দলকে আপনাদের এতটা গুরুত্ব দিয়ে সবসময় কথা বার্তা না বললেও চলে। মানুষ চায় আপনারা কাজের কাজ কিছু করেন, যা করতে চেয়েছিলেন তার বাদ বাকিটা করেন দেশ প্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে। আপনারা কাউকে অনুকরণ না করলেও পারেন। শুধু স্বচ্ছতা বজায় রেখে বঙ্গঁবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ পরিপূর্ণ ভাবে কর্মীদের শিক্ষা দেন কাজে-কর্মে। শুধু মনোয়ন কাজে নয়, সবক্ষেত্রে কর্মীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কথায় না বলে কাজে প্রয়োগ করুন। চাঁদাবাজিসহ সকল অপরাধ মূলক কাজ থেকে কর্মীদের বিরত রাখুন। আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিন। হলফনামা উঠিয়ে দেয়ার প্রস্তাব বাতিল করুন, সূলভে গ্যাস, বিদ্যুৎ, কয়লা, পানি সরবরাহ সহ খাদ্যদ্রব্য ভেজাল মুক্ত রাখতে সর্বশক্তি নিয়োগ করুন। আপামর জনগণ আপনাদের সহায়তা করতে প্রস্তত। চাকরি-বাকরি ও শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে লক্ষ লক্ষ যুবশক্তি। এদের প্রনোদনা দিন স্বচ্ছতার সাথে। যুদ্ধাপরাধী সহ সকল মামলা-মোকদ্ধমা দ্রুততার সাথে নিস্পাত্তি করুন। পদ্মাসেতুসহ সকল প্রতিশ্রুতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা খোলামেলাভাবে সম্পন্ন করুন। নারী অধিকার বাস্তবায়নে সিডও সনদের আলোকে অগ্রসর হোন। আমি সব সমস্যার কথা এখানে উত্থাপন করছিনা ইচ্ছে করেই। সেটা আপনারা পারবেনও না। যা পারবেন তাই স্বচ্ছতার সাথে দেশ প্রেমের নিরিখে সুসম্পন্ন করুন। সরকার ও সংসদ পরিচালনায় দেশ প্রেমের পরাকাষ্ঠা দেখান। নবপ্রজন্মের মনোজগতে বিজাতীয় ভাবধারার যে অনুপ্রবেশ ঘটছে তাকে রোধ করার অন্য কোন যাদুকরী পন্থা নেই। শুধু কাজ আর কাজ করেই মানুষের মনোজগতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রবেশ করানো যায় ও যাবে, যা এতদিন গত ৪২ বছওে হয়নি। সেই সাথে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত না করার যা কিছু আছে তাই দিয়ে তা করতে হবে। শিক্ষাকে অর্থবহ করতে হবে এবং শুধু এটা করেই দেশকে সকল সাম্প্রদায়িক জঙ্গি অপশক্তির আগ্রাসন থেকে এবং সেই সাথে বিদেশী শক্তিধরদের অকেটাপাস থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব। কৃষককে শুধু উপকরণ সেবামূলক সহায়তা দিলেই হবে না। কৃষক-কৃষি সমবায় পদ্ধতি যা বঙ্গঁবন্ধু শুরু করেছিলেন তা পুনবায় গ্রামে-গঞ্জে চালু করতে হবে। এতে শহর মুখীনতা কমবে অবশ্য।

আর শেষ কথাটি এভাবে প্রধান মন্ত্রীকে বলতে চাই, অনুরোধ করতে চাই বিন¤্রতায়-আপনি যে ভাবে বেঁচে আছেন খুনীদের হাত থেকে তা এদেশের কেউ অনুধাবন করতে পারে না, পারবে না। বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবের পরিবার আর দ্বিতীয়টি নেই এদেশে এমন কি অন্য কোন দেশে পৃথিবীর। আপনি দয়া করে সব ব্যাপারে, সবকিছু বিপক্ষের আবোল তাবোল কথায় কান দিবেন না, কথা বলবেন না। মনে রাখবেন আপনার কথার ফাক-ফোকর ওদের রাজনীতির মাঠ গরম করার পুঁজি। এটা আপনি ওদের দেবেন না। আমি আপনার চেয়ে বয়সে বড় একজন অখ্যাত ব্যক্তি, শিক্ষকতা (বাকৃবিতে) করে জীবনের শেষটা কাটিয়েছি এবং সৎ জীবনযাপন করি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে লালন করে। আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে আমার আগ্রহ!!

লেখক পরিচিতি: অধ্যাপক, গবেষক।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!