আজ || বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম :
  হেমনগর জমিদারের একাল-সেকাল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন       গোপালপুরে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ       গোপালপুরে পটগান ও নাটক প্রদর্শনী       গোপালপুর হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত       গোপালপুরে সাংবাদিকদের সাথে ওসির মতবিনিময়       গোপালপুরের লক্ষীপুর চাকুরীজীবী পরিষদ কর্তৃক শীতবস্ত্র বিতরণ       গোপালপুরে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে সুয়েটার উপহার       গোপালপুরে স্বামীর হাতে দুই সন্তানের জননী খুন       গোপালপুরে দুই বিঘা জমির কাঁচা সরিষা ট্রাক্টর দিয়ে মাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ       গোপালপুরে গুদামের শার্টার ভেঙ্গে সার চুরি, ১০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ আটক ১    
 


টাইগারদের থাবায় বিপর্যস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ, প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের ৭ উইকেটের জয়

খুলনায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫৮ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। দীর্ঘ আট মাস পর ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা বাংলাদেশ এদিন শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বোলারদের গড়ে দেওয়া ভিতের উপর দাঁড়িয়ে সহজ জয় এনে দেন ব্যাটসম্যানরা। এ নিয়ে খুলনায় হওয়া তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে টাইগাররা।

ঠিক ২০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দেখেশুনেই করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও অভিষিক্ত এনামুল হক বিজয়। স্যামি ইনিংসের শুরুটা করেন স্পিনার স্যামুয়েলসকে দিয়ে। কিন্তু স্যামির ফাটকা ব্যর্থ করে দিয়ে ইনিংসটাকে এগিয়ে নিয়ে যান দুই ওপেনার। তামিম নিজের সহজাত খেলা খেললেও অন্য প্রান্তে পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ধরে খেলে তামিমকে দারুণ সমর্থন দিয়ে যান এনামুল। প্রথম পাওয়ার প্লেতে আসে ৪৯ রান। কেমার রোচের করা ইনিংসের ১৩তম ওভারে দুই চার ও এক ছক্কায় ১৭ রান নেওয়ার পথে ওয়ানডেতে টানা পঞ্চম ম্যাচে ফিফটি তুলে নেন তামিম। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে নারাইন যখন তামিমকে পোলার্ডের হাতে ধরা পড়তে বাধ্য করেন ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই লেখা হয়ে গিয়েছিলো। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৮৮/১। যার ৫৮ ই এসেছে তামিমের ব্যাট থেকে। ৫১ বল খেলে ৮ চার ও দুই ছয়ে সাজান ১১৩.৭২ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটি। এরপর এনামুল জুটি গড়েন দীর্ঘ দিন পর ওয়ানডে দলে ফেরা নাঈমের সাথে। দুজনে দেখেশুনে খেলে ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন এনামুল। স্যামির শর্ট বলে পুল করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যাটের উপরের কানায় লেগে বল উঠে যায় উপরে। ফিরতি ক্যাচ নিতে ভুল করেননি স্যামি। ৬২ বলে ৭ চারে ৪১ রান করেই তাই থামতে হয় এই তরুণ তুর্কীকে। এরপর চার নম্বরে মুশফিকের জায়গায় মাঠে প্রবেশ করেন নাসির। খেলতে থাকেন নিজের ঢঙেই। কিন্তু নাঈমকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি তিনি। ২৯ বলে ২৮ করে নাসির যখন তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে যান তখন জয় থেকে বাংলাদেশ মাত্র ৪৩ রান দূরে। অধিনায়ক মুশফিককে নিয়ে বাকি কাজটুকু সারেন ৭৯ বলে ৬ চারে পঞ্চাশ রানে অপরাজিত থাকা নাঈম। মুশফিক ২২ বলে ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। টেস্টের পর ওয়ানডে অভিষেকেও দারুণ পারফর্ম করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন সোহাগ গাজী।

এর আগে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সকালে ব্যাটিং উইকেটে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। শুরুটা বেশ দেখেশুনেই করেন দুই ওপেনার গেইল ও সিমন্স। অন্যদিকে শুরুথেকেই পরিকল্পনার ছাপ রেখে নিখুঁত লাইন লেংথে বোলিং করে আসছিলেন দুই পেসার মাশরাফি ও রাজু। প্রথম দিকে উইকেট থেকে সামান্য সহযোগিতাও পেয়েছিলেন তাঁরা। আর সেটা কাজে লাগিয়ে আদায় করে নিয়েছেন কিছুটা মুভমেন্টও। দেখেশুনে খেলে প্রথম পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৪৭ রান সংগ্রহ করেন গেইলরা।
প্রথম পাওয়ার প্লের পরের ওভারে টানা বল করে যাওয়া মাশরাফি ব্যাক্তিগত ৬ষ্ঠ ওভারে প্রথম আঘাত হানেন ক্যারিবীয় শিবিরে। ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ২৫ বলে ১৩ করা লেন্ডল সিমন্সকে। পরের ওভারে প্রথমবারের মত বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন মুশফিক। বল তুলে দেন অভিষিক্ত অফ স্পিনার সোহাগ গাজীর হাতে। নিরাশ করেননি সোহাগ। ওয়ানডেতে নিজের দ্বিতীয় বলেই ফিরিয়েছেন বিপজ্জনক হয়ে উঠার অপেক্ষায় থাকা গেইলকে। লং অনে অসাধারণ দক্ষতায় গেইলের ক্যাচ নেন তামিম। আউট হওয়ার আগে ৪০ বলে ৪ টি চার ও ২ ছয়ে ৩৫ করেন গেইল। নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবার আঘাত হানেন সোহাগ। তাঁর পঞ্চম বলে স্লিপে স্যামুয়েলসের ক্যাচ নেন মাহমুদুল্লাহ। টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাট করা স্যামুয়েলস শূন্য রানে ফেরেন ৯ বল খেলে। ক্যারিবীয়দের সম্মিলিত সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৫০।
এরপর পোলার্ডকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ করছিলেন ব্রাভো। জুটিতে ৫০ রান করে দুজন এগিয়ে যাচ্ছিলেন ভালোই। কিন্তু সেটা ভালো লাগবে কেন রাজ্জাকের? ২৩তম ওভারের শেষ বলে তাই ফেরান পোলার্ডকে। শর্ট মিড উইকেটে পোলার্ডের ক্যাচ নেন মাশরাফি। পরের ওভারের চতুর্থ বলে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ডেভন থমাসের সাথে ভুল বোঝাবোঝিতে রান আউট ৪১ বলে ৩৫ করা ব্রাভো। এরপর যেন মড়ক লাগে ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ে। দ্রুত ফিরে যান স্যামি, রাসেল ও থমাস। একপর্যায়ে ১৩৩ রানে অষ্টম উইকেটের পতন ঘটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫০ রান পেরোনোর শঙ্কা জাগে। নবম উইকেট জুটিতে রামপলকে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি গড়ে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহটাকে মোটামুটি ভদ্রস্থ একটা রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন নারাইন তখনই আবার আঘাত হানেন রাজ্জাক। তুলে নেন ২৫ রান করা রামপলের উইকেট। ১৯৯ রানে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৪৫ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন নারাইন। কেমার রোচ অপরাজিত থাকেন ৩ রানে। ৯.৫ ওভার বল করে মাত্র ২৯ খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে অভিষেকটাকে স্মরণীয় করে রাখেন সোহাগ। রাজ্জাক ৩৯ রানে নেন ৩ উইকেট। মাহমুদুল্লাহ ও মাশরাফি নেন ১ টি করে উইকেট।

এদিকে এই ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক হয় চার জনের। রাজু ও সোহাগের সাথে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছেন এনামুল হক বিজয় এবং মমিনুল হক সৌরভ।

এশিয়া কাপে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার পর এই ম্যাচে সাকিবকে ছাড়া খেলেই পাওয়া জয় সীমিত ওভারের ম্যাচে ঘরের মাঠে পরাশক্তি হয়ে উঠার ইঙ্গিতই কি দিচ্ছে বাংলাদেশ?

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!